নরসিংদীর সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও সীমাবদ্ধতা

সাহিত্যের গতিপথ ত্রিভঙ্গিম, সত্য, সুন্দর ও শৈল্পিক। নন্দন মাঠে অনুভূতির ভাষাগত বপনই সাহিত্য। প্রকৃতার্থে সাহিত্য হলো জীবনাচারের ভাষাগত শৈল্পিক প্রকাশ। ভাষা সৃষ্টির কাল থেকেই মানুষ ভাষাগত অনুভূতি প্রকাশের উপায় খুঁজছে আর সময়ান্তরে তা হয়েছে বিচিত্র।

মানুষের চিন্তাজগত বিচিত্র বলে এর ভাষাগত প্রকাশও বিচিত্র। হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ— এসব অনুভবের আক্ষরিক আঁচড়েই নান্দনিক হয় সাহিত্যের সোপান। কথা আর সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য হলো অলঙ্কার আর কাঠামো। যাকে আমরা সাহিত্য বলবো, তার ধর্ম অনুযায়ী ভাষাগত শরীর ও অলঙ্কার থাকা চাই। অনুভূতির জগত অনেকটা অদৃশ্যমান হলেও সাহিত্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান দুই ভঙ্গিমায় হাঁটাচলা করে।

প্রকৃতার্থে সাহিত্যের কোনো শিক্ষক বা গুরুজি নেই। কেউ কেউ বলে থাকেন, আছে, লাগে। আমার দৃষ্টিতে এসব লাগে না। যদি তেমনভাবে প্রয়োজন হতো, তাহলে লালন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সাহিত্যচর্চা করতে পারতেন না। কিছুটা ভাষাজ্ঞান থাকার পরে পরিবেশ, পরিস্থিতি, স্বগত ভাবনার সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো অনুরণন পেলে চেতনার চাতালে হেসে ওঠে সাহিত্যের ফল্গুধারা।

লেখালেখির শিক্ষক হলো সাথের লেখক, সাথের কবি ও বোদ্ধা পাঠক। কবির সাথে কবির আড্ডা না হলে, লেখকের সাথে লেখকের কথা না হলে, শিল্পীর সাথে শিল্পীর দেখা না হলে সাহিত্য শাণিত হয় না, পরিশীলিত হয় না।

আবহমান কাল থেকে আমাদের নরসিংদীর নন্দন হলো তাঁতকাপড়, তরি-তরকারি ও নানান ফলমূল। তাই মনন প্রকর্ষণে সাহিত্য সংস্রবের পরিবর্তে পল্লবিত হয়েছে কৃষি অর্থাৎ মাটির মহিমাকীর্তন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, হাড়িধোয়া, আড়িয়াল খাঁ, কাঁকন ও পাহাড়িয়া নদীর পেলব পলল মানুষকে যতোটুকু আবেগী বা বিবাগী করেছে, তারচেয়ে বেশি করেছে কৃষিমুখী ও শিল্পমুখী। তাই সাহিত্য এখানে পরিযায়ী অথবা পরিব্রাজক গোছের। অতীতে কেউ কেউ ছিলেন দ্বিজ। বসবাস করতেন শহরে, অকস্মাৎ উঁকি দিতেন মফস্বলে। নরসিংদীর মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, নরসিংদীর ধুলো-বালি মাখা, সর্বাঙ্গে নরসিংদীর রঙ-রসদ মাখা স্থির-স্থিতধী কবি-লেখক এখানে খুবই কম। শামসুর রাহমান, ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ, ড. মনিরুজ্জামান, ড. সফিউদ্দিন আহমেদ, হরিপদ দত্ত, সোমেন চন্দ, সাবির আহমেদ চৌধুরী, দ্রাবিড় সৈকত, এম আর মাহবুব, মোহাম্মদ সা’দত আলী, মাসুদ পথিক, স্নিগ্ধা বাউল— কেউ নরসিংদীতে বসবাস করতেন না বা করেন না।

এককালে নরসিংদী ছিলো ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ। বিপ্লবী সতীশ চন্দ্র পাকড়াশী, সুন্দর আলী গান্ধী, ললিতমোহন রায়, সোমেন চন্দ, সুনীল বরণ রায়, সেকান্দর মাস্টার, বিজয়ভূষণ চ্যাটার্জি, জিতেন্দ্র কিশোর মৌলিকরা বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন সমিতি’র মাধ্যমে এলাকায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন বেগবান করেছিলেন। এসব আন্দোলনের অগ্নিচ্ছটা ও আভা-বিভায় বেশ রক্তরাঙা হয়েছে এই অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতি। সেই চেতনার রঙ-রসদে প্রতিবাদী ও বিপ্লবী সাহিত্যের সাথে পরিচিত হয়েছে এই অঞ্চলের বোদ্ধা পাঠক। তাই এই অঞ্চলের সাহিত্যকর্মকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন : বিপ্লবী চেতনার সাহিত্য, লোকসাহিত্য, মরমি বা ভাববাদী সাহিত্য, ধর্মসাহিত্য, আধুনিক ও উত্তরআধুনিক সাহিত্য।

সতীশ চন্দ্র পাকড়াশী, হরিচরণ আচার্য্য, সোমেন চন্দ, প্রিয়বালা গুপ্তা তাঁদের বোধভাবনায় ঘুরে-ফিরে এসেছে বিপ্লব, সংগ্রাম ও দ্রোহ। ঊনিশ শতকের ঊষালগ্নে কবি আজিজুল হাকিম, কবি বে-নজীর আহমেদ, কবি অক্রূর চন্দ্র ধর ছিলেন সাহিত্যাকাশের ধ্রুবতারা। মরমিয়া মানবতাবাদ ও ভাববাদের নিগূঢ় তত্ত্বলোকে নিবিষ্ট ছিলেন কাঙালি বাউল, দ্বিজ দাস ও সাবির আহমেদ চৌধুরী। তাঁদের সংগীত ও কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে সৃষ্টিতত্ত্ব ও দেহতত্ত্বের গূঢ়-গভীর বিশ্লেষণ। বিশ শতকের ঊষালগ্নের কবি, নাট্যব্যক্তিত্ব ও ইতিহাসকার অধ্যাপক সুরেন্দ্রমোহন পঞ্চতীর্থ আমাদের অনেক জ্ঞানগর্ভ সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন। তাঁর লেখা ‘মহেশ্বরদীর ইতিহাস’ অতীত বীক্ষণের এক নতুন নেত্র। পরবর্তীতে নাট্যকার অক্রূর চন্দ্র ধর, অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সন্তোষ শীল, শ্রী হীরেন্দ্র কৃষ্ণ দাস, জালাল উদ্দিন, অনুপ ভৌমিক, ইউনুছ মিয়া, আবুল হোসেন পাঠান, শাহ্ আলম, মতিউর রহমান, মহিউদ্দিন ভূঁইয়া হীরা, মোছলেহ উদ্দিন বাচ্চু প্রমুখ নরসিংদী নাট্য আন্দোলনকে শুধু বেগবানই করেননি, সৃষ্টি করেছেন নাটকের নতুন ধারা।

ইতিহাসচর্চা, গবেষণা ও অতীত বীক্ষণে যাঁরা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, তাঁদের মধ্যে ত্রৈলোক্যনাথ ভট্টাচার্য, মুহাম্মদ ওসমান গণি, ড. মনিরুজ্জামান, ড. সফিউদ্দিন আহমেদ, সুরমা জাহিদ, সরকার আবুল কালাম, ইমাম উদ্দিন, শফিকুল আজগর ও সিরাজ উদ্দিন সাথীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভাষা ও লোকসাহিত্য গবেষণায় ড. মনিরুজ্জামান, ধ্বনিতত্ত্ব ও বানানরীতিতে কালাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় সুরমা জাহিদ, ভাষা আন্দোলন গবেষণায় এম আর মাহবুব আমাদেরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতকে যাঁরা অলঙ্কৃত করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইংরেজ আমলে রেনুকা সেন, রমা রায় আর পাক আমলে ওস্তাদ কালু মিয়া, মফিজুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. আবদুত তাহের, হালে হরিমোহন দেবনাথ, মতিউর রহমান চৌধুরী, আবুল হোসেন খোকন ও আসাদুজ্জামানের নাম অতি উজ্জ্বল। ধর্মীয় ভাবধারার লেখকদের মধ্যে ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। তাছাড়া মীর রহমত আলী, মৌলভী মোজাফফর হুছাইন, মৌলভী আবু তাহের, মৌলভী আব্দুল খালেক ও হাশেম খানের নাম উল্লেখযোগ্য।

লোকসাহিত্যে কবিয়াল হরিচরণ আচার্য্য এক বিস্ময়কর প্রতিভা। নরসিংদীর লোকসাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন লোকসাহিত্য গবেষক মোহাম্মদ হানীফ পাঠান ও মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান। কাদাখোঁচা পাখির মতো তাঁরা মাটি খুঁড়ে বের করেছেন লোকসাহিত্যের মানিক-রতন। তাছাড়া কিসসাকার দেওয়ান হাফিজ ও আবদুল হাকিম কুঁইড়া, পুঁথিকার দারোগ আলী, ভাটকবি মফিজ উদ্দিন নরসিংদীর লোকসাহিত্যের প্রাণপুরুষ।

আধুনিক কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি শামসুর রাহমান এক ধ্রুবতারা। তিনি উভয় বাংলায় সমান জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান। তাঁকে নাগরিক কবি, স্বাধীনতার কবি, মিথের কবি— এমন অনেক অভিধাই দেওয়া যায়। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান অবধি প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে তাঁর কবিতা আমাদের পথ দেখিয়েছে, যুগিয়েছে সাহস ও প্রেরণা। সাহিত্যের সব্যসাচী ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ এক বিস্ময়কর প্রতিভা। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর ছিলো সাবলীল সন্তরণ। কবিতা, নাটক, ছোটোগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এমনকি শিশুসাহিত্যেও নজর দিতে ভুলেননি। হরিপদ দত্ত আধুনিক কথাসাহিত্যের এক অতি উজ্জ্বল নক্ষত্র। অনুবাদ সাহিত্যে হুমায়ূন কবীর দিন দিন ছড়িয়ে দিচ্ছেন আপন ঔজ্জ্বল্য। তবে কবি শামসুর রাহমান ও কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের পর নরসিংদীর সাহিত্যাকাশে তেমন দ্যুতিমান কবি-লেখকের আবির্ভাব হয়নি, তবু যাঁরা বর্তমানে নরসিংদীর আধুনিক সাহিত্যকে মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কবি দ্রাবিড় সৈকত, হাসনাইন হীরা, মাসুদ পথিক, স্নিগ্ধা বাউল, মহসিন খোন্দকার, সুমন ইউসুফ, রফিকুল নাজিম, মাহবুবুল আলম কনক, আখতার জামান, রিপন ইউসুফ, মনোয়ারা স্মৃতি ও দয়াল ফারুকের নাম অতি উজ্জ্বল। পাশাপাশি ছড়াসাহিত্যেও নরসিংদীতে বেশ কয়েকজন মেধাবী মুখ রয়েছে, তাঁদের মধ্যে ছড়াকার আবু আসাদ (প্রয়াত), এমদাদুল ইসলাম খোকন, মহসিন খোন্দকার ও ফজলুল হক মিলন প্রমুখ অন্যতম।

নরসিংদী শিল্প কল-কারখানার শহর। অনেকেই বলে থাকেন, লোহা-লক্কড়ের সাথে কবিতা যায় না, সাহিত্য বেমানান। কথাটি পুরোপুরি অসত্য নয়। তবে মূল সমস্যা এখানে নয়, মূল সমস্যা হলো মানুষের অধিক মাত্রায় মুদ্রামোহগ্রস্ততা। মুদ্রাকেন্দ্রিক জীবনযাপন ও প্রাচুর্যে মহাসুখ অনুভব করা।

কবি শামসুর রাহমান ও কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের পর নরসিংদীর সাহিত্যাঙ্গন অনেকটা খা খা বিরানভূমি। প্রায় ত্রিশ লক্ষ জন-অধ্যুষিত এই জনপদে কম-বেশি ৩০০ জন কবি লেখক আছেন। অর্থাৎ দশ হাজারে একজন। সংখ্যা যা-ই হোক, আপত্তি নেই। কিন্তু এখানে কবি আছেন, কবিতা নেই। সাহিত্যিক আছেন, কিন্তু সাহিত্য নেই। জানি, এই কথায় অনেকে বেশ কষ্ট পাবেন। তবে অবস্থা ঠিক এমনই। হাতে গোনা কয়েকজনের কথা বাদ দিলে বাকিরা যার যার মতো লিখছেন। তাঁদের লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যাঁদের লেখা ঠিক সাহিত্য হয়ে ওঠেনি, এজন্যে তাদের সরাসরি দোষ দেয়া যায় না। সাহিত্যচর্চার জন্যে যে পরিবেশ-পরিস্থিতি দরকার, যে বলয় ব্যাপ্তি দরকার, আমাদের নরসিংদীতে এসবের খুবই অভাব। ষাট সত্তরের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে সাহিত্যচর্চার বলয় কেন্দ্র গড়ে ওঠেছিলো ঢাকার সদরঘাটের বিউটি বোর্ডিংকে কেন্দ্র করে। স্বাধীনতার পর আশির দশকে সেটি চলে আসে ঢাকার শাহবাগে। বর্তমানে এটি আরো বিস্তৃতি লাভ করে বাংলাবাজার, কাঁটাবন ও পাঠকসমাবেশে স্থান নিয়েছে। নরসিংদীতে সাহিত্যচর্চার তেমন সুন্দর কোনো বলয় কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। হালে নরসিংদীর খালপাড়ের বই-পুস্তক, গঙ্গাঋদ্ধি পত্রিকা, প্রগতি লেখক সংঘ, পরিশীলন সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, নরসিংদী কবি সংসদ, নরসিংদী কবি-লেখক পরিষদ ও বেশ কিছু ফেসবুকভিত্তিক সাহিত্যচর্চা সংগঠন গড়ে ওঠেছে।

সাহিত্যচর্চার জন্যে দরকার স্থিরতা, দৃঢ়তা ও ভাবগাম্ভীর্যতা। কিন্তু মানুষ ও সমাজ এখন তুমুল অস্থির। সবাই ছুটছে যার যার মতো। কারো জন্যে কারো অপেক্ষা করার ফুরসত নেই। মানুষ ছোটো হতে হতে অতি ছোটো হয়ে ঢুকে গেছে একান্ত নিজের ভেতর। সমাজভাবনা, রাষ্ট্রভাবনা, সাহিত্যচর্চা অনেকের কাছে সময়ের অপচয় মনে হয়, বেশতি কাজ মনে হয়। অনেকেই বলে থাকেন, লেখালেখির কোনো শিক্ষক নেই। আমার দৃষ্টিতে লেখালেখির শিক্ষক হলো সাথের লেখক, সাথের কবি ও বোদ্ধা পাঠক। কবির সাথে কবির আড্ডা না হলে, লেখকের সাথে লেখকের কথা না হলে, শিল্পীর সাথে শিল্পীর দেখা না হলে সাহিত্য শাণিত হয় না, পরিশীলিত হয় না। প্রকৃত লেখককে সাধারণ মানুষের ও তাদের যাপিত জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভ্রমণ-পরিভ্রমণ করতে হয়। মানুষের জীবনগভীরে ডুব না দিয়ে জীবনঘনিষ্ট সাহিত্য সৃষ্টি করা অসম্ভব। পদ্মার পাড়ে না গিয়ে শুধু বুদ্ধির নাড়াচাড়ায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ লেখেননি। এসব লিখতে গিয়ে নিশ্চয় তিনি পদ্মাপাড়ের মানুষের যাপিত জীবনকে হৃদয়ে গভীরভাবে ধারণ করেছিলেন। সত্যজিৎ রায় যে ‘পথের পাঁচালি’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, নিশ্চয় তিনি বিশতলার এসিকক্ষে বসে বানাননি। চলচ্চিত্রটির পরিবেশ-পরিস্থিতি, আবেশ-অনুভূতি নিশ্চয় হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন।

আজকাল অনেক কবি-লেখকই বসবাস করেন শহরের সুরম্য অট্টালিকায়, প্রাচুর্যপূর্ণ জীবনযাপন করেন। তাঁরা কখনো শ্রমিকের ঘর্মাক্ত শরীর দেখেন না, কৃষকের চাষাবাদ দেখেন না, জেলেদের জীবন দেখেন না, রোদ-বৃষ্টি দেখেন না, নিবিড়ভাবে ভুখা-নাঙ্গাদের জীবন-সংগ্রাম না দেখেই তাঁদেরকে নিয়ে কাব্যের ফুলঝুরি ছড়ান, সাহিত্য বানান— এটা সম্পূর্ণ ভাওতাবাজি। এক্ষেত্রে তাঁরা যতো ভালো লিখুক না কেন, কোথাও না কোথাও ফাঁক থেকে যাবে। এভাবে যাঁরা এগোচ্ছেন, আমার দৃষ্টিতে তারা কবি না, কবি সাজেন, তারা লেখক না, লেখক সাজেন। তাঁরা অনেকটা পোশাকি, খোলসজাত, সাহিত্যের ভাড়াটে, হৃদয়ে সাহিত্য নেই, প্রাণে মানুষ নেই, সাহিত্যের নাম ভাঙিয়ে চলেন। ঘন ঘন পদক নেন। যেনতেনভাবে নিজের শরীরে কবি-লেখক তকমা লাগান, তারপর বনে যান তথাকথিত বুদ্ধিজীবী। এসবের কারণেও আমাদের প্রকৃত সাহিত্যসেবী মাঠে মারা যাচ্ছে।


মহসিন খোন্দকার
সাধারণ সম্পাদক, প্রগতি লেখক সংঘ, নরসিংদী

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ