মহেশ্বরদী প্রতিভা : কৃতী শিক্ষাবিদ আমির উদ্দিন মাস্টার

এক সময়কার সুবর্ণবীথি থেকে মহেশ্বরদী, তারপর মহেশ্বরদী  থেকে নরসিংহদী, নরসিংহদী থেকে আজকের নরসিংদীর জন্ম। সেই নরসিংদী শহরের কোল ঘেঁষে যে-গ্রামটি বিস্তৃত, সেটি হাজীপুর গ্রাম। ছোটো হাড়িধোয়া নদীর পাড় ঘেঁষে গ্রামটি পূর্বাংশে বর্ধিত হয়েছে। গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সুবিশাল মেঘনা নদী প্রবাহিত। অতীতে বিভিন্ন বর্গের কৃষক, মৎস্য শিকারী ও ছোটোখাটো ব্যবসায়ীদের বাস ছিলো সেখানে। হিন্দু প্রধান নরসিংদী শহরে বড়ো বড়ো ব্যবসায়ী, আড়তদার ও চাকুরিজীবীদের তুলনায় হাজীপুর অনেকটা পিছিয়ে ছিলো। শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবনযাত্রার দিক দিয়েও তারা আশানুরূপ ছিলো না।

এমন একটি পিছিয়ে পড়া জনপদে আমির উদ্দিন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেও পরবর্তী জীবনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেছিলেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি যেমন মেধাবী ছিলেন, কর্মক্ষেত্রে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সাফল্য ছিলো বিরল এবং তাঁর শিক্ষা ও মেধার মাধ্যমে নরসিংদীতে একটি শতবর্ষী শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্ম হয়, যার ধারাবাহিকতায় তাঁর ভাই ও বংশধরদের অনেকেই ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি শিক্ষায় আলোকিত হয়।

আমির উদ্দিন আহমেদের জন্ম আনুমানিক ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে। তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই। পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। আমির উদ্দিন আহমেদ কলকাতা আলিয়া মাদরাসা ও প্রেসিডেন্সি কলেজের কৃতী ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে এন্ট্রান্স ও ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বিএ পাশ করেন। উক্ত জনপদ থেকে কোনো মুসলমান ছাত্র হিসেবে সম্ভবত তিনিই প্রথম কলকাতা আলিয়া মাদরাসা ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে যথাক্রমে এন্ট্রান্স ও  ডিগ্রি সনদপ্রাপ্ত হন। জানা যায়, আলিয়া মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এন্ট্রান্স পাশ করার পর ঢাকা নওয়াব বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে আমির উদ্দিন আহমেদকে পুরো এলাকা ঘুরানো হয়। কলকাতা থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি গ্রামে চলে আসেন। প্রেসিডেন্সি কলেজের গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কলকাতায় যেকোনো পদস্থ সরকারি চাকুরি গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু সেই লোভ  পরিত্যাগ করে তিনি ১৯১৩ কিংবা ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আদিয়াবাদ ইসলামিয়া ইংরেজি হাই স্কুলে শিক্ষকতার চাকুরি গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে অবসরে যান। কিন্তু তিনি বসে থাকার মতো লোক ছিলেন না। পরবর্তীতে ব্রাহ্মন্দীর স্থানীয় জমিদার জিতেন্দ্র কিশোর মৌলিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কামিনী কিশোর মৌলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্কুল পরিচালনা পর্ষদে জড়িত ছিলেন। স্কুলটি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে পথচলা শুরু করেছিলো। উক্ত স্কুলে তিনি ইংরেজি ও অঙ্ক ক্লাশ নিতেন।  জনশ্রুতি ছিলো, স্কুলটি এক পর্যায়ে আর্থিক সংকটে পড়ে। তখন আমির উদ্দিন মাস্টার শখের বন্দুক বিক্রি করে দিয়ে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে সহযোগিতা করেছিলেন।

দাঙ্গা ছাড়াও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তখন না খেয়ে অনেকে মারা যান। বুভুক্ষু মানুষ কঙ্কালসার অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতেন। তাদের মুখে আহার দেয়ার জন্যে তিনি বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলেছিলেন। নিজের জমি বামা সুন্দরী নামক ধনাঢ্য মহিলার নিকট বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে তাদের জন্যে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তখন অনেকে অভাবের কারণে বাস্তুহারা হয়েছিলেন। তাদের থাকার জন্যে স্থাপনাও নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি একজন সফল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। একজন সুবিচারক হিসেবে মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি ব্রিটিশ আমলে হাজীপুর ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। একাধারে অনেক বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাছাড়া ঢাকা জেলা বোর্ডের সদস্য, জুরিবোর্ডের সদস্য ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মহকুমা লোকাল বোর্ডের মেম্বার হিসেবে অনেকদিন দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি জেলা বোর্ডের মেম্বার থাকাকালীন এই অঞ্চলে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কূপ স্থাপনে সুপারিশ করতে হতো। সে-সময় তিনি রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও সালিশী ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্যে স্বর্ণের মেডেল, আংটি ও সুরমাদানি পুরস্কারপ্রাপ্ত হন ব্রিটিশ প্রশাসন কর্তৃক। একবার কচুরিপানার দৌরাত্ম্যে মেঘনা নদীর নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমির উদ্দিন আহমেদের প্রচেষ্টায় সেই নৌপথ সচল হয়। এই অবদানের জন্যে প্রশাসন একটি স্বর্ণের মেডেল পুরস্কার দিয়েছিলেন।

১৯৪৬ ও ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ও তার আশেপাশে ব্যাপক দাঙ্গা শুরু হয়, যার তাপ এসে লাগে নরসিংদীতে। হিন্দু প্রধান এলাকা হওয়ায় দাঙ্গা হওয়ার উপক্রম হয়। তখন সুন্দর আলী গান্ধী, আমির উদ্দিন মাস্টার, মৌলভী তফাজ্জল হোসেন, মধু ভূঞা, নৃপেন্দ্রচন্দ্র রায় প্রমুখ দাঙ্গা বন্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাদের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার কারণে এলাকায় হিন্দু-মুসলমানদের সহাবস্থান নিশ্চিত হয়। আমির উদ্দিন আহমেদ মাস্টার তাঁর বাড়িতে অনেক হিন্দুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

দাঙ্গা ছাড়াও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তখন না খেয়ে অনেকে মারা যান। বুভুক্ষু মানুষ কঙ্কালসার অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতেন। তাদের মুখে আহার দেয়ার জন্যে তিনি বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলেছিলেন। নিজের জমি বামা সুন্দরী নামক ধনাঢ্য মহিলার নিকট বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে তাদের জন্যে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তখন অনেকে অভাবের কারণে বাস্তুহারা হয়েছিলেন। তাদের থাকার জন্যে স্থাপনাও নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।

তিনি শিক্ষা প্রসারে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য। এলাকায় ১৯২৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো জ্বেলেছিলেন। নিজ অর্থে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সরকারিকরণের অর্থ জমা করেন। এর আগে তিনি নিজ বাড়ির বাংলোঘরে অবৈতনিক পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করে নিজেই শিক্ষা দিতেন। অনেক গরীব-অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্যে তিনি নিজের টাকায় বই-পুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী কিনে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বালাপুরের জমিদার কালী বাবুর পরিত্যক্ত জমিতে এলাকার মানুষের জন্যে গড়ে তোলেন চিকিৎসা কেন্দ্র, যা পরবর্তীতে আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেলে সেই জায়গাটি এলাকার খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি আনসার ক্যাম্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে নরসিংদীর বহু গুণীজনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিলো। অনেকের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে ওঠেছিলো। তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি অনেক সামাজিক ও মানবিক কাজও করেছেন। সম্পর্কের সুবাদে তাদের অনেকেই আমির উদ্দিন মাস্টারের হাজীপুরের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, কংগ্রেস নেতা সুন্দর আলী গান্ধী ও তাঁর ভাই শিক্ষানুরাগী বেলায়েত হোসেন মাস্টার, ‘সংবাদ’ পত্রিকার মালিক ও ঘোড়াশাল মিয়াবাড়ির জমিদার আহমেদুল কবির, ব্রাহ্মন্দীর জমিদার জিতেন্দ্র  কিশোর  মৌলিক, সাবেক এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী আফছারউদ্দিন আহমেদ, পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর সুলতান উদ্দিন আহমেদ, সাটিরপাড়ার জমিদার ও পরবর্তীতে ভারতের চন্দননগরের গর্ভনর ও পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব সুনীল বরণ রায়, ঢাকার নবাব বাড়ির এস এ সেলিম, যোগেন্দ্র মাস্টার, মজিবুর পণ্ডিত, নকুল কুমার পণ্ডিত প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

ব্যক্তিগত জীবনে আমির উদ্দিন আহমেদ চিনিশপুর ইউনিয়নের পুরানপাড়ার জমিদার জয়েন উদ্দিন ভূঁইয়ার বড়ো মেয়ের (মধু ভূঁইয়ার বড়ো বোন) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯১৫ সালে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংসার জীবনের কোনো-এক সময়ে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯২৫ সালে তিনি শিবপুর থানাধীন বৈলাব গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জনাব আজাহার আলী (দুদু) খন্দকারের বড়ো মেয়ে আক্তার খাতুনের সাথে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হন।

আমির উদ্দিন মাস্টারের কৃতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নানা মন্তব্য করেছেন। তন্মধ্যে বিশিষ্ট দার্শনিক ও নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তাঁর ‘মনের আরশিতে নরসিংদী’ লেখায় আমির উদ্দিন মাস্টারের শিক্ষানুরাগ ও সমাজসেবার প্রশংসা করেন। নরসিংদীর খ্যাতনামা শিল্পপতি মৌলভী তফাজ্জল হোসেনের লেখা ‘আমার জীবন কথা’ গ্রন্থে আমির উদ্দিন মাস্টার সাহেবের কথা এসেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় আমির উদ্দিন মাস্টারের কৃতিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বহুভাষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। ঢাকা গেলে তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। আদিয়াবাদ ইসলামিয়া হাই স্কুলে একবার ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অতিথি হয়ে এসেছিলেন। তখন আমির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। উল্লেখ্য, দুজন একই কলেজের ছাত্র ছিলেন।

হাজীপুরের আদি বাসিন্দা ছিলেন আমির উদ্দিন আহমেদ মাস্টার। তাঁর পূর্বপুরুষ হিসেবে আবদুল হালিম দেওয়ানের নাম পাওয়া যায়। ধারণা করা যায়, তিনি মুঘল আমলে এলাকায় দেওয়ান বা প্রধান খাজনা আদায়কারী ছিলেন। তাঁর দুই পুত্রের নাম মাজুম দেওয়ান ও হাজারী দেওয়ান। মাজুম দেওয়ানের ছেলে উমেদ আলী, হাজারী দেওয়ানের তিন সন্তান— জনাব আলী (মুন্সি), আমুদ আলী ও আহমদ আলী। জনাব আলী মুন্সির দুই স্ত্রীর গর্ভে ছয় ছেলের জন্ম হয়। যথা— আফসার উদ্দিন, আমির উদ্দিন, ছাফির উদ্দিন, আলফাজ উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া ও গোলাম রব্বানী। এদের মধ্যে জনাব আলী ও সাহারবানুর গর্ভে আমির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত। তাঁর চার ছেলে ও ছয় মেয়ে। তাদের নামÑ রুহুল আমিন, ফখরুল আমিন, রাফিকুল আমিন, সদরুল আমিন, জাহানারা বেগম, নূরজাহান বেগম, সেতারা বেগম, খালেদা বেগম, লায়লা বেগম ও মাহমুদা বেগম। ছেলেমেয়েদের মধ্যে সদরুল আমিন সবচেয়ে খ্যাতিমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দুইবারের সভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বেশ কিছু বই লিখেছেন। মাতৃভূমির প্রতি আমির উদ্দিন মাস্টারের ছিলো অগাধ ভালোবাসা। কলকাতার শিক্ষা জীবন বাদ দিলে তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিলো নিজ এলাকা। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তাঁর ছাত্রদের অনেকেই পরবর্তীতে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি নিয়মিত দিনলিপি লিখতেন। পত্রিকা পাঠ করা ছিলো নিয়মিত অভ্যাস। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ফিচার কাটিং করে সংরক্ষণ করতেন। তাঁর আরেকটি ব্যতিক্রমী শখ ছিলো চা প্রীতি। ব্রিটিশ আমলে মানুষ চা সম্পর্কে কিছুই জানতো না। চায়ের প্রচারে তিনি হাজীপুরের নিজ বাড়িতে ‘চা প্রচার ক্যাম্প’ করেছিলেন। সেখানে বিনা পয়সায় চা পানের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো চা পানের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যে। তিনি চায়ের প্রচারকাজে অংশ নিতে অনেককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

এই কৃতী মানুষটির স্মৃতি ধরে রাখার জন্যে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছু মহতী কাজ করে যাচ্ছেন ‘আমির উদ্দিন আহমেদ মাস্টার ফাউন্ডেশন’ গঠনের মাধ্যমে। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে উক্ত ফাউন্ডেশন স্থানীয় অসহায়-গরীব শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান করছে। ভবিষ্যতে তারা আরো কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছেন। যার মাধ্যমে এই কৃতী শিক্ষাবিদ মানুষের মনে জাগ্রত থাকবেন।


আপেল মাহমুদ
সাংবাদিক, গবেষক ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ সংগ্রাহক

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ