আটক
ই ফ তে খা র
তারপর ভেঙে যায়
ভেস্তে যায়
একলা একখানি পূর্ণদৈর্ঘ্য দিন;
ভাঙা ভাঙা হাওয়ারঙ সজলসমেত!
অজ্ঞাত চিৎকারের চিরস্থায়ী অনুরণন নিয়ে
ধীর ধীরে অধীর সুতোটানে একটা পলকের
অসীম পর্বতপুঞ্জ নেমে আসে।
টবে ঘুমায় ঘুমের বিড়াল : কস্মিনকালের দুপুরের ছাই।
এক যে ছোটো চায়ের কাপে কতো শত সুপ্রচেষ্টার আহ্লাদ
স্বীকৃতির চুইংগাম, একতরফা মানবীয় দোষ, তুষ্টিনীতি, কথার বেলুন
অনুসিদ্ধান্ত, আপাত প্রবোধ, রাষ্ট্রীয় জাদুমাখা ভাত
অন্তহীন জনমে ঠাসা মগজের হারমোনিয়াম।
একটা দিন চুরমার হয়ে গেলেই কেবল আরেকটা দিন আসে!
![]()
মরু-অরণ্যের ফাঁদ
নূ র নি হা দ
চাপালিশের পাতা ঘেঁষে নেমে আসা সন্ধ্যায় ধর্মান্তরিত সংকেত ও বধিরতা ভর করে নিকট নক্ষত্রের পিঠে। জমতে থাকা কাঞ্চনকুয়াশায় ভারি হয়ে আসে বিষণ্ণ সাইকেল। যে-ফুল দেখেনি কেউ এর আগে, যে-ঘ্রাণ পৃথিবীরও অচেনা ভীষণ— এমনসব অজানা আঁতুড় লুকিয়ে রাখা গোপন পাটাতন খুলে দিলে সমস্ত বিষাদ ও নিঃসঙ্গতা এসে জমা হয় বিমর্ষ ছাতিমের নিচে। ফেলে আসা কিছু দরোজা এমন, আরশের মালিক দুর্লঙ্ঘ্য পেরেক মেরে দিয়েছে যার কব্জায়।
জীবন মূলত বিলম্বিত ব্যাকরণের ফাঁদ… ধূসর হয়ে আসা আকাঙ্ক্ষার সুতো, ফিরে ফিরে আসা অপরাহ্ণের রোদে মরু-যাযাবরের দীর্ঘতর ছায়ার জ্যামিতি। কম্পনঘন শীতের অরণ্যে প্রশস্ত অভিযান, মৃত ডাহুকের ফ্যাকাশে চোখের মতো গহীন যাতনা— হঠাৎ থমকে যাওয়া ঝড়ের শেষে বিরহপ্রবণ হলুদ দুপুর…
![]()
মুখোশ খসা
স্নি গ্ধা বা উ ল
এমনটা সময়
কেউ নাই
রয়ে যাচ্ছি
দরজার পাশে পোষা বেড়ালের মতো
আর রাস্তায় হর্ন দিচ্ছে জলপাই রঙের পাখি
এমনই সময়
বিকেলে একা লাগে
গলিতে মাংস কুড়ায় গৃহস্থ কুকুর
তারগাছে পেচিয়ে মরছে অনবদ্য তারকাটা
একদিন সোমবার
টেলিফোন আসে
টিয়া পাখি উড়ে যায় নিজের আকাশে
ব্যাভিচারীর মুখোশ যায় খসে খসে…
![]()
জবানের কুলুপ
ম নো য়া রা স্মৃ তি
বন্ধ দরোজায় প্রতিরাতে টোকা মারে
লাশের দল,
যারা কাবাব হয়েছে লেলিহান শিখায়।
যারা গুম হয়েছিলো, খুন হয়েছিলো নষ্টের সিলমোহরে
ভ্রষ্টতারই ইশতেহার হাতে আত্মাহূতি দিয়েছিলো।
দরোজা খুলতেই তারা শিশুদের পাঠশালার মতো
হুড়মুড়িয়ে কেবল ঢুকে যায় আমার শয়নকক্ষে।
আনবিক বোমা হয়ে বিস্ফোরিত হয় সারা ঘরময়।
নির্লজ্জতা লালন করি না, তাই জ্যোছনা বিলাসী নই।
দিবালোকের আয়েশি লোবান আবিষ্ট করতে পারে না।
অস্ত্রধরা হাতদুটো বর্গা রেখেছিলাম নিদানকালে।
জবানে কুলুপ আঁটা,
কলমের কালিও ধার করে কেনা।
মাথাটা এখনো বেচে দিইনি আর পা দু’খানাও সচল।
হেঁটে হেঁটে কতোখানি পৃথিবী পার হওয়া যায় বলো?
তাই প্রতিরাতেই লাশ হয়ে যাই লাশেদের মিছিলে।
![]()
না কবি না কবিতা
রা কি বু ল ই স লা ম
তোমারে না পাইলে আমি কী করমু?
তুমি কইলা, “কবিতার বই লিখবা,
বিরহে কবিতার বই বালা লেহুন যায়।”
কই তুমি! আর কই কবিতার বই?
তোমার স্তনের মাঝখানের খাঁদে
কিংবা ভালোবাসার উষ্ণতায়
অইরহম এক ডজন বই হারায়া যাইতে পারে
আমি তো তোমারে চাইছিলাম
বইমেলার কবি হইতে চাই নাই

