দেশপ্রেমে ব্রতী আবুল হাসিম মিয়ার জীবনচরিত

একাত্তরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের সর্বদলীয় কমিটির আহ্বায়ক, প্রবীণ জননেতা এবং বাম রাজনীতিবিদ আবুল হাসিম মিয়াকে পাকিস্তানি সেনারা শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভরতেরকান্দি গ্রামের শফিউদ্দিন মাস্টারের বাড়ি থেকে আটক করে। সেখান থেকে তাঁকে নরসিংদী টেলিফোন এক্সচেঞ্জে নিয়ে যায়। তাঁর উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। পা উপরে ও মাথা নিচে ঝুলিয়ে দাঁতের পাটিতে বেত মেরে ফেলে দেয়। এক সপ্তাহ এভাবে তাকে নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়া হয়।

নরসিংদী অঞ্চল বাম রাজনীতির তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত ছিলো। বহু বিপ্লবী রাষ্ট্র ও পুলিশের রোষানল থেকে বাঁচতে এখানে এসে আশ্রয় গ্রহণ করতেন। এটা ছিলো বামধারার রাজনীতিবিদ ও বিপ্লবীদের অভয়কেন্দ্র। গত শতকে নরসিংদী অঞ্চল দাঁপিয়ে বেড়ানো তেমনি একজন নিবেদিতপ্রাণ বামধারার রাজনীতিবিদ ছিলেন আবুল হাসিম মিয়া; সবার প্রিয় ‘হাসিম ভাই’। বনেদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও অতি সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন সমগ্র জীবন। আর মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন সর্বদা।

আবুল হাসিম মিয়া জন্মেছেন ১৯২০ সালে, দত্তপাড়ায়। রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। নরসিংদীর অবিসংবাদিত রাজনৈতিক পুরুষ সুন্দর আলী গান্ধী তাঁর চাচা। সে-কারণে সর্বভারতীয় বহু নেতার সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান তিনি।

আবুল হাসিম মিয়ার পিতা হাফিজ উদ্দিন ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ধার্মিক ব্যক্তি। তাঁর চাচা সুন্দর আলী গান্ধী ছিলেন নরসিংদীর খ্যাতিমান ব্যক্তি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ছিলো বলিষ্ঠ ভূমিকা। মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ সৈনিক এবং অনুসারী ছিলেন বলে তিনি জনগণের কাছ থেকে ‘গান্ধী’ উপাধি পান। একদিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, অন্যদিকে স্থানীয় সামন্ত প্রভু, জোতদার, মহাজন, সুদখোরদের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন আপসহীন। অসাম্প্রদায়িক ভূমিকার কারণে তাঁকে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যের দূতও বলা হতো। গৌরবদীপ্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুন্দর আলী গান্ধী ১৯৪৭ সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মরদেহ মেঘনা নদীর তীরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কুল-মসজিদ-ঈদগাহের পাশে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। হাসিম মিয়ার আরেক চাচা বেলায়েত হোসেন মাস্টার ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। পারিবারিক বাতাবরণে তিনি বড়ো হন দেশসেবার ব্রত নিয়ে। দুজনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে সেই অঞ্চলের অনগ্রসর সম্প্রদায় এবং জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রদানের মানসে ১৯২৮ সালে নরসিংদী মাইনর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে বিদ্যালয়টি নরসিংদী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি ‘নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে পরিচিত।

নরসিংদী অঞ্চলের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বেলায়েত হোসেন মাস্টার। বাংলা, ইংরেজি— উভয় ভাষাতেই তিনি ঋদ্ধ ছিলেন। দুষ্প্রাপ্য, দুর্লভ এবং বিশ্বখ্যাত বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা পাঠ করে লাভ করতেন পরম তৃপ্তি ও প্রশান্তি। নরসিংদী সরকারি কলেজ, নরসিংদী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মেঘনার তীরে স্থাপিত দাতব্য চিকিৎসালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে তাঁর শ্রম ও ঘামের গন্ধ পাওয়া যায়। তাছাড়া স্থানীয় বাউলমেলার শীর্ষ আয়োজক হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। বেলায়েত হোসেন মাস্টারের অনেক গুণাবলি, বিশেষ করে, দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ সংগ্রহ, দুর্লভ পত্র-পত্রিকা পাঠ ও সংগ্রহ বংশগতভাবে তাঁর পুত্র শাহাদাত হোসেন মন্টুর ভেতরও জাগ্রত ছিলো। শাহাদাত হোসেন মন্টু এ-বছরের জুন মাসে পরপারের পথে পাড়ি দিয়েছেন।

আবুল হাসিম মিয়ার মেজো কাকা আবদুল হামিদের ছেলে আবদুল গফুর মিয়াও খুবই সাহসী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহকুমার মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

হাসিম মিয়ার পিতামহ কেরামত আলী আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। দ্বীনি চেতনায়ও ঋদ্ধ ছিলেন। তিনি দত্তপাড়ায় এসে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। প্রপিতামহ আরবাব আলী খান সিপাহী বিপ্লবের (১৮৫৭) সংগঠক ও তহবিল সংগ্রাহক ছিলেন।

শিক্ষা-সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও রাজনীতিতে বিশাল পরিবারটি নিঃসন্দেহে সারা দেশে বিখ্যাত ছিলো বলাই যায়। পাক-ভারত উপমহাদেশের বরেণ্য ব্যক্তিগণ এই বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, ড. আচার্য কৃপানলি, ডা. বিধানচন্দ্র রায়, শরৎ বোস, রাসবিহারী বোস, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, আতাউর রহমান খান, খাজা নাজিমুদ্দিন, মোহাম্মদ আলী (বগুড়া), প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমদ, কমরেড মণি সিংহ প্রমুখ।

পারিবারিক জীবন
আবুল হাসিম মিয়ার পিতা হাফিজ উদ্দিনের ছিলো দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর গর্ভের সন্তান আবদুল আজিজ (কালু মিয়া)। দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভের তিন পুত্র সন্তান— আবুল হাসিম মিয়া, আবদুর রশিদ মিয়া ও আবদুল লতিফ মিয়া। দুই কন্যা সন্তান হলো মাজেদা বেগম ও ফিরোজা বেগম। আবুল হাসিম মিয়া ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মেট্রিক পাশের পর রাজনৈতিক কারণে পড়াশোনা করা হয়নি। দেশপ্রেমের দীক্ষা নিয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। রাজনৈতিক কারণেই তাঁর বিয়ে করা হয়নি। ছোটো ভাই আবদুল লতিফের সংসারের সাথে তিনি সম্পৃক্ত থাকেন।  তাঁর মা-ও ছোটো ভাইয়ের সংসারে যুক্ত ছিলেন। আবদুল লতিফের নরসিংদী বাজারের পাটপট্টিতে একটি লন্ড্রি ছিলো। পরবর্তীতে অন্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর ছোটো ভাই মারা যায়। ছোটো ভাইয়ের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। এরাই ছিলো তাঁর সন্তান। এদের লেখাপড়ার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সার্বক্ষণিক রাজনীতি করার কারণে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন না। কিছু ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে ব্যবসায় ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন। তা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে নিজের ও সংসারের খরচ মেটাতেন।

ভাতিজা ও ভাতিজিদের লেখাপড়ার জন্যে হারুন অর রশিদ ভূঁইয়াকে লজিং মাস্টার নিয়োগ করেছিলেন। হারুন সাহেবের বাড়ি ছিলো শিবপুরের বৈলাব গ্রামে। মাধবদীতে সুতার দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় হারুন অর রশিদ নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে প্রাইভেটে এসএসসি পাশ করেন। নরসিংদী কলেজের অনেক ছাত্র গ্রাম থেকে এসে আর্থিক কারণে মেসে অথবা ভাড়া বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে পারতো না। আবুল হাসিম মিয়া বহু ছাত্রের লজিংয়ের ব্যবস্থা করে দেন। অপর ভাই আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলেমেয়েরাও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যথেষ্ট কাজে লেগেছে। ভাতিজি রাশিদা বেগম লাভলি সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতি মোহন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। ভাতিজা মিয়া মো. মঞ্জুর নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের (১৯৯৯-২০০০) ভিপি ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে অবদান
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নরসিংদী অঞ্চল যথেষ্ট সরব ছিলো। জনগণের সম্পৃক্ততা ছিলো গভীর। ফলে এই অঞ্চল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে নরসিংদীতে প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল আজিজ, বিজয়ভূষণ চ্যাটার্জি, সেকান্দর আলী, আবুল হাসিম মিয়া, আহমেদুল কবীর, মোসলেহ উদ্দীন ভূঞা, আফতাব উদ্দিন ভূঞা, ফজলুল হক খোন্দকার, আফসার উদ্দিন ভূঞা, আবদুল করিম মিয়া ও কফিল উদ্দিন ভূঞা প্রমুখ।

২৩ ফেব্রুয়ারি দত্তপাড়ার ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী উপস্থিত হন। সেদিন সন্ধ্যার পূর্বেই পুরো শহর মিছিলে-শ্লোগানে উদ্ভাসিত হয়। শুরু হয় গণগ্রেফতার ও পুলিশী নির্যাতন। সেদিন আবুল হাসিম মিয়া, সুরেশ পোদ্দার, আবুল ফজল মিয়া ও গৌরানন্দ সাহা গ্রেফতার হন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততা
সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন (স্কুল এন্ড কলেজ)-এর পরিচালনা পরিষদের দুই মেয়াদে সদস্য ছিলেন আবুল হাসিম মিয়া। ১৯৭২-৭৫ ও ১৯৭৫-৭৮। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের ও নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। নরসিংদী উচ্চ বালিকা বিদ্যানিকেতনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং নরসিংদী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারি) দেশভাগের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে চালু করার প্রধান উদ্যোক্তা। এছাড়া তিনি ব্রাহ্মন্দী মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন।

কারাজীবন
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারি করে। পাকিস্তানব্যাপী রাজনৈতিক নেতাদের কারারুদ্ধ করা হয়। সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র মল্লিক (ফণী মল্লিক)-এর সাথে ছিলো আবুল হাসিম মিয়ার সখ্য। তিনি ছিলেন বামপন্থামনস্ক। আবুল হাসিম মিয়া, সুরেশ পোদ্দার, কার্তিক সাহা, সাত্তার, সরোজেন্দ্র লাল সাহা, মুস্তাফা সরোয়ার ও আবুল ফজল প্রমুখকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান
একাত্তরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের সর্বদলীয় কমিটির আহ্বায়ক, প্রবীণ জননেতা এবং বাম রাজনীতিবিদ আবুল হাসিম মিয়াকে পাকিস্তানি সেনারা শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভরতেরকান্দি গ্রামের শফিউদ্দিন মাস্টারের বাড়ি থেকে আটক করে। সেখান থেকে তাঁকে নরসিংদী টেলিফোন এক্সচেঞ্জে নিয়ে যায়। তাঁর উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। পা উপরে ও মাথা নিচে ঝুলিয়ে দাঁতের পাটিতে বেত মেরে ফেলে দেয়। এক সপ্তাহ এভাবে তাকে নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়া হয়। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে শর্ত জুড়ে দেয়, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নরসিংদী ছেড়ে যেতে হবে। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনির কাছে দমে যাননি। ঢাকার মিরপুরে আত্মগোপনে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতে থাকেন।

মস্কো ভ্রমণ
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের পরামর্শে ১৯৭৯ সালের জুলাই মাসে আবুল হাসিম মিয়াকে পার্টির তিন মাসের প্রশিক্ষণ ও সফরের জন্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তিনি সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের ফলে বিভিন্ন রাজ্যের জনগণ কেমন আছে, তা সচক্ষে দেখেন, তাদের সাথে কথা বলেন। মস্কোসহ সেই দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন।

জাতীয় স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ
আবুল হাসিম মিয়া ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নরসিংদী-রূপগঞ্জ আসনে পিডিপি’র প্রার্থী হয়ে ‘ছাতা’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ন্যাপে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী সদর আসনে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে ‘কুঁড়েঘর’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। উপরের দুটি নির্বাচনে প্রচুর ভোট না পেলেও ভালো ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সবাই তার প্রশংসা করেন।

নরসিংদী পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে ১৯৭৭ সালে ‘ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে গণফোরাম গঠিত হলে তিনি উক্ত দলে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে অংশগ্রহণ করে স্বল্প সংখ্যক ভোট পান।

শেষকথা
১৯৯৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৭৯ বছর বয়সে আবুল হাসিম মিয়া চলে যান না ফেরার দেশে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ তাঁর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নরসিংদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আবুল হাসিম মিয়া স্মৃতি সংসদ’ স্মরণসভার আয়োজন করে এবং গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে।

যারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতেন, তাদের সংখ্যা অল্প এবং এখন তারা বিলীয়মান প্রজাতি। আবুল হাসিম মিয়ার মৃত্যুর ২৫ বছর পরও তাঁর কর্মের জন্যে বেঁচে আছেন মানুষের হৃদয়ে।


রঞ্জিত কুমার সাহা
উপদেষ্টা, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি
সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ